নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের কাজিরবাজার ব্রিজের ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হাতে স্কুলছাত্র রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের ২০দিনেও গ্রেপ্তার করা যায়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে তার গ্রামের বাড়ি ও সিলেট নগরীতে চলছে আন্দোলন। ইতোমধ্যে পৃথক মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়েছে।
রোববার সিলেটের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। কর্মসূচি থেকে পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার না করলে বৃহত্তর আন্দোলন করার কথা জানানো হয়।
এতে বক্তারা বলেন, ঘটনার তিন সপ্তাহ বের হলেও একজন খুনিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একজন স্কুলছাত্রকে খুন করায় শুধু তার পরিবার নয়, সব ছাত্রের পরিবার আতঙ্কে আছেন।
শিক্ষানুরাগী হুমায়ূন আহমেদ মাশুকের সভাপতিত্বে ও শাকিল আহমদ খানের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহতের মা ডলি বেগম, মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল মুনিম মল্লিক মুন্না, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদী পাবেল, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলার সহ-সভাপতি ফুয়াদ বিন রশীদ, উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন, দারুস সালাম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ, অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আলিম উদ্দিন, নিহতের চাচাতো ভাই হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে একটি মিছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে, গত ৫ আগস্ট হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে গোপালগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ এলাকার সর্বস্তরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
মানবন্ধনে মা ডলি বেগম বলেন, আমার ছেলের মতো আর কাউকে যাতে প্রাণ দিতে না হয়। পুলিশ আজ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করল না। এটা দুঃখজনক। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।
গত ২৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে সিলেট নগরীর কাজিরবাজার সেতুর ওপর একদল কিশোরদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়, নগরীর খাসদবির দারুস সালাম বন্ধন জি-৩ বাসার মিফতাহ উদ্দিনের ছেলে ও স্থানীয় দ্বীপ শিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র রিফাত আহমদ (১৫)। রিফাতের গ্রামের বাড়ি গোলাপগঞ্জের বাদেপাশা ইউনিয়নের আমকোনায়।
ঘটনার পর ৩০ জুলাই রিফাতের মা ডলি বেগম বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এসএমপির কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। হামলায় আসামি করা হয় গোয়াইনঘাট উপজেলার কুড়িখলা পশ্চিমপাড়ার সুরুজ আলী ছেলে শুয়েব আহমদ ও ইমন আহমদ, ফখর উদ্দিনের ছেলে সাজু আহমদ, খলামাদব গ্রামের কলিম উদ্দিনের ছেলে মাসুম আহমদ, পেকের খালের জসিম উদ্দিনের ছেলে আবুল খায়ের তামিম, আব্দুল্লাহর ছেলে তরিকুল আমিন ও হাদারপাড়ের জিয়াউর রাহমানের ছেলে জুয়েলকে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। ফুটবল খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা তার ছেলেকে খুন করে বলে এজাহারে উল্লেখ করেন নিহতের মা।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, আসামিরা স্থান পরিবর্তন করায় তাদের অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে। যেকোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা হবে।
