১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মরা সুরমা-খাজাঞ্চি নদীর ২৮ কিলোমিটার খনন হচ্ছে

Uncategorized
শেয়ার করুন

সিলেট সদর উপজেলার পশ্চিম সীমান্ত এবং বিশ্বনাথ উপজেলার উত্তরপূর্ব সীমান্ত ১নং লামাকাজি ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের উত্তর থেকে দক্ষিণমূখী মরা সুরমা ও সুরমার উপনদী খাজাঞ্চি ও মাকুন্দা নামে খ্যাত নদী খননের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। খাজাঞ্চি নদী খাজাঞ্চি গাঁও ও ফুলচন্ডি গ্রামের মধ্য থেকে উৎপত্তি হয়ে দক্ষিণ পশ্চিম দিক দিয়ে রাজাগঞ্জ বাজার, আশুগঞ্জ বাজার, বৈরাগী বাজার, সিংগের কাছ বাজার ও টুকের বাজার হয়ে জগন্নাথপুরের রসুলগঞ্জ বাজারের পাশ দিয়ে কুশিয়ারা নদীতে মিলিত হয়েছে। মরা সুরমা থেকে বিশ্বনাথ উপজেলার সীমান্ত পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার নদী খনন করা হবে। এই ২৮ কিলোমিটার নদী খননের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ইতি মধ্যে খননের জায়গা সংলিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। নদী খননের সংবাদে বিশ্বনাথ, ছাতক ও জগন্নথপুর উপজেলার মানুষের মধ্যে আনন্দ উল্লাস বিরাজ করছে। তবে নদী খননের নামে ঘাস পরিস্কার করে সরকারি টাকা লোটপাট হয় কিনা এনিয়ে চিন্তিত রয়েছেন সচেতন মহল। প্রকল্পটি সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হলে বিশ্বানাথ, জগন্নথপুর উপজেলা বাসির মৎস, কৃষি ক্ষেত্রে নতুন দুয়ার উম্মোচিত হবে।
একটি দায়িত্বশীল সুত্রমতে চলতি বছর জানুয়ারি মাসে প্রকল্পটির দরপত্র আহবান করা হলে উত্তর ঢাকা গুলশান প্লট নং-২ দর্পন কমপ্লেক্সের এসএ এসআই ইসরাত এন্টারপ্রাইজ জেবি প্রখম ১৫ কিলোমিটার এবং মেসার্স পূবালি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্টান ১৩ কিলোমিটার নদী খননে কার্যাদেশ পায়। গত মার্চ মাসে নদী খনন করার নির্দেশনা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্টান কাজ শুরু করতে পারেনি। তবে অক্টোবর মাসে নিয়মিত ভাবে কাজ শুরু হবে বলে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। আউশা গ্রামের পশ্চিমে মরা সুরমা থেকে দক্ষিণ দিকে ফুলচন্ডি গ্রাম পর্যন্ত ২.২ কিলোমিটার মরা সুরমা থেকে খাজাঞ্চি নদীর ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত খনন করবে প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্টান। তারা যেখানে নদীর চর জেগেছে সেখান থেকে মোট ৪ লাখ ৬৫ হাজার ঘণমিটার মাটি কাটবে। এতে ব্যায় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। পূবালি এন্টারপ্রাইজ দ্বিতীয় অংশে ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় ৩লাখ ২৮ হাজার ঘণমিটার মাটি কাটা হবে বলে সুত্রটি জানায়। মাটি কাটার পর খনন কৃত মাটি দিয়ে নদীর তীর সংরক্ষন এবং নদীর তীরে প্রয়োজনীয় স্থানে গাছ ও মাটি যাহাতে বৃষ্টির পানিতে ভিজে মাটি নদীতে না পড়ে সেজন্য ঘাস ও লাগাতে হবে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১জন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে জানাযায়, ২৮ কিলোমিটার নদী খননের স্থানে নীচে ১০ মিটার থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত এবং ১৩ফুট থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত খনন স্থান গভীর হতে হবে। নদীর তলদেশ যেখানে খনন করা হবেনা সে স্থান হিসাবের আওতায় আসবেনা বলে জানান তিনি। নদী খননের সীমানা চিহ্নিত কিভাবে করেছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন এসএ ম্যাপ ও গুগল দেখে সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। নদী খননে কোন জটিলতা বা বাঁধা আপত্তি কিংবা কোন অসুবিধা হবেনা বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ২০১৭ সালের ৩মার্চ দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় ‘নদী এখন মরা গাং, পানি সংকটে বিশ্বনাথ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হওয়ায় পর পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে একটি প্রকল্প প্রেরণ করা হয়। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর টেন্ডার আহবানের মাধ্যমে সকল কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের এসও আল-আমিন সরকার জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের সাথে তার কথা হয়েছে, অক্টোবরের মধ্যেই তারা নদী খননের কাজ শুরু করবেন।

লেখক, কলামিষ্ট ও সমাজ বিশ্লেষক-এ এইচ এম ফিরোজ আলী


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *