হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর শৈশব কাল ও ভারতবর্ষে আগমনের বিস্ময়কর কাহিনী

Uncategorized
শেয়ার করুন

ডাক ডেক্স : মক্কার ঐতিহ্যবাহী ও অভিজাত কুরাইশ বংশের একটি শাখা ধনে, জ্ঞানে, শিক্ষা দীক্ষায় ও মানে গৌরবে তৎকালে খুবই প্রসিদ্ধ ছিল। ধর্ম পালন, ন্যায় নীতি ও সততার আশ্রয় অবলম্বন ঐ কুরাইশ শাখাটির বৈশিষ্ট্য ছিল। একবার ঐ কুরাইশ শাখার বেশ কিছু পরিবার তাহাদের জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে হেজাজের দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তে ইয়ামেন প্রদেশে চলে গেল এবং সেখানেই বসবাস শুরু করল।

যারা মক্কা হতে ইয়েমেনে চলে আসল, তাদের মধ্যে শায়খ মাহমুদ ছিলেন এক উল্লেখ্যযোগ্য ব্যক্তি। তিনি কিছুদিন ইয়ামেনে অবস্থান করার পর তাঁর পরিবার পরিজন নিয়ে সেখান হতে তুরস্ক চলে যান এবং তথাকার কুনিয়া নামক এক ক্ষুদ্র শহরে গিয়ে বসতি স্থাপন করেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, শায়খ মাহমুদ যখন ইয়ামেন হতে তুরস্ক গমন করেছিলেন তখন যদিও তিনি বিবাহিত ছিলেন কিন্তু তার কোনো সন্তান সন্তুতি ছিল না।

তিনি নিজে যেমন মক্কার অভিজাত কুরাইশ বংশোদ্ভুত ছিলেন, তেমনি তিনি বিবাহও করেছেন কুরাইশ বংশের এক শরীফ নারীকে। এ নারী নানাগুনে বিভূষিতা ছিলেন। সততা, সত্যবাদিতা, নম্রতা, পবিত্রতা, বুদ্ধিমত্তা প্রভৃত গুণে তিনি তৎকালীন কুরাইশ নারীদের মধ্যে ছিলেন অন্যতম। শায়খ মাহমুদও ইসলাম প্রচার কার্যে একনিষ্ঠভাবে নিয়োজিত ছিলেন।

শায়খ মাহমুদ ইয়েমেন হতে যখন সস্ত্রীক তুরস্কের কুনিয়া নামক ছোট শহরে এসে বসবাস আরম্ভ করেন তখনও পর্যন্ত তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। বিবাহের পর দীর্ঘদিন এভাবে সন্তান সন্তুতি লাভ না করায় শায়খ মাহমুদ দম্পতি পারিবারিক জীবনে সত্যিই এক অভাব অনুভব করেছিলেন।

এজন্য তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই অন্তত একটি সন্তান লাভের জন্য আল্লাহর দরবারে নিয়তই প্রার্থনা করতেন। অচিরেই আল্লাহর দরবারে শায়খ ও তার স্ত্রীর মিনতি কবুল হল। শায়খ মাহমুদ পত্নী শীঘ্রই গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন। ১২৭১ খ্রিস্টাব্দে শায়খ মাহমুদ – পত্নী অতুলনীয় সুন্দর একটি পুত্র সন্তান প্রসব করলেন।

সদ্য ভূমিষ্ট সন্তানের রুপ দর্শন করে পিতা মাতার চোখ জুড়িয়ে গেল এবং তাদের অন্তর ভরে গেল। আল্লাহর অফুরান্ত দয়ার উসিলায় সন্তান লাভ করার ফলে তাদের মনে সীমাহীন খুশি ও আনন্দ। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় কত যে দান খয়রাত করলেন ও গরীবকে ভোজন করালেন তার হিসাব নেই।

শিশু জালালের বয়স যখন তিন মাস অতিক্রম করছে (সম্ভবত তৃতীয় মাসের একুশতম দিনে ) জালালের মাতা ভোর হতেই মাথায় তীব্র যন্ত্রনা অনুভব করলেন এবং সাথে সাথে বেশ সর্দি কাশিরও প্রকোপ ছিল। সারাদিন ঐ ভাবে কাটার পর রাতে ভীষন জ্বর দেখা গেল। এর পাঁচ ছয়দিন পরেই শিশুপুত্রকে রেখে ইহজগত ত্যাগ করলেন তিনি।

অসময়ে এ শোকাবহ ঘটনার ফলে শায়খ মাহমুদ একদিকে যেমন পত্নী শোকে মুহ্যমান হলেন অন্যদিকে মাতৃহারা শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনি দারুন ভাবনায় পড়লেন। যেভাবেই হোক, তিনি পরম স্নেহে ও সাধ্যাতীত যত্ন চেষ্টায় পুত্র জালালের লালন ও সবরকম তত্ত্বাবিধান নিজেই করতে লাগলেন। দিন বয়ে যাচ্ছিল।ইতোমধ্যে প্রায় ৫ বছর অতিক্রান্ত হল।

সে যে মাতৃহারা তা সে এখন বেশ ভাল করে বুঝে। গৃহে তার অভিভাবক ও আপনজন একমাত্র পিতাকেই জানে। দিবা রাত্রির প্রায় প্রতিটি মুহুর্ত ছায়ার মত পিতার নিকটেই থাকেন।সুযোগ্য পিতা যখন হতে পুত্রের মুখে কথা ফুটেছে,তখন হতেই তাকে যথাযোগ্য গড়ে তুলবেন,মনে এ আশা নিয়ে শিক্ষা দিতে শুরু করলেন।হঠাৎ খবর রটল রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিররা যুদ্ধের আয়োজন করছে।

তাদের মোকাবেলায় নিয়মিত মুসলিম বাহিনী প্রস্তুত হল, কিন্তু কাফিরদের শক্তির অনুপাতে মুসলমানদের আরো সৈনিক শক্তি প্রয়োজন হওয়ার ফলে দেশের অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক এবং অন্যান্য প্রধান বিচক্ষণ বীর মুজাহিদগনেরও জিহাদে শরীক হওয়ার আহবান আসল। শায়খ মাহমুদ শিক্ষা- দীক্ষা লাভের সাথে সাথে যুদ্ধ বিদ্যায়ও পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন। সুতরাং ধর্মযুদ্ধে যোগদানের জন্য তার নিকট ও বিশেষ আহবান পত্র পৌছাল।

যেখানে প্রিয় ইসলাম বিপন্ন সেখানে তিনি পুত্রের নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে গৃহের কোনে লুকিয়ে থাকাকে ধর্ম বিরোধী কার্য বলে মনে করলেন। সুতরাং যুদ্ধের ডাক আসা মাত্রই তিনি মুসলিম বাহিনীতে যোগদানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করলেন এবং তার এক প্রতিবেশীর নিকট পুত্র জালালের দায়িত্ব সমর্পন করে মুসলিম সেনাবাহিনীতে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন।

কুনিয়া শহর হতে বেশ কিছু সংখ্যক মুজাহিদ যুদ্ধে শরীক হয়েছিল। যুদ্ধে জয়লাভ করে তারা প্রায় সকলেই ফিরে এসেছে। কিন্তু শায়খ মাহমুদ প্রত্যাবর্তন করলেন না। জিহাদ হতে প্রত্যাগত মুজাহিদগনের মুখে শুনা গেল -তিনি জিহাদের ময়দানে বীরত্বের সাথে লড়াই করে অবশেষে শাহাদাত বরন করেছেন।

পাঁচ বছরের শিশু জালাল উদ্দীনের কানেও তার পিতার শাহাদাতের কথাটি পৌছেছিল কিন্তু সে তখন এ কথার অর্থ বুঝতে পেরেছিল কি না বলতে পারি না। আল্লাহ কি তার প্রিয় বান্দাদের শৈশবেই এতিম করে দেন? যেমন এতিম হয়েছিলেন আল্লাহর প্রিয় হাবিব, মহানবী হযরত মুহম্মদ (সঃ)।

জালাল উদ্দীনের মামা সৈয়দ আহমদ কবীর সুহরাওয়ার্দী ছিলেন সেসময়ের প্রসিদ্ধ আলেম। ইনি কুনিয়া হতে বেশ কিছু দূরে তুরস্কের অন্য এলাকায় বাস করতেন। সুতরাং কুনিয়ায় বসবাসরত তার বোন অর্থাৎ শায়খ মাহমুদের স্ত্রীর মৃত্যু খবর তিনি জানতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরস্পরের মধ্যেকোনরুপ যোগাযোগ বা আসা যাওয়া ছিল না।

ভগ্নির মৃত্যুর প্রায় পাঁচ বছর পর তাঁর ভগ্নিপতির জিহাদে শাহাদাত বরণের কথা তদঞ্চলের মুজাহিদগনের নিকট তিনি জানতে পারলেন। এসময় তিনি তার জনক, জননীহারা ইয়াতিম ভাগ্নেটির কথাও তাদের কাছে শুনা মাত্রই কুনিয়া অভিমুখে রওনা হলেন। কুনিয়া পৌছে তিনি জালালকে নিয়ে স্বীয় বাসস্থানে ফিরলেন।শায়খ মাহমুদ কুনিয়া বাসীর নিকট পরম শ্রদ্ধেয় মুরুব্বী ছিলেন, আর জালালউদ্দীনের মামা আহমদ কবীর একজন উচ্চ পর্যায়ের আলেম, জ্ঞানী ও পরহিতৈষী ব্যক্তি ছিলেন।

তাই কুনিয়া বাসীর অনুরোধে তিনি ওয়াদা করলেন যে, শিশু জালালকে নিয়ে স্বীয় বাসস্থানের ফিরে, স্বপরিবারে কুনিয়া প্রত্যাবর্তন করবেন। তিনি তার প্রতি শ্রুতি রেখেছিলেন। জালালউদ্দিনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সে নিজের মাথায় তুলে নেয়। ধর্মীয় শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্বদিয়ে তিনি তাকে প্রথমে আরবী সবক দেন। মাত্র ছয় বছর বয়স কালে তিনি নিয়মিত নামায আদায় করতেন। বালক জালাল ছিলেন পতার সমস্ত গুনের ধারক।

একদিনে তিনি যেমন ছিলেন পরম বিদ্যোৎসাহী, অন্যদিকে পরম ধীশক্তিসম্পন্ন। মামা আহমেদ কবীর তার তীক্ষ্ণ জ্ঞান আর অভূতপূর্ব বিচক্ষণতার দ্বারা তারা উজ্জ্বল ভবিষ্যত আন্দাজ করেছেন। মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি সমগ্র কোরআন শরীফ মুখস্ত করে শ্রেষ্ঠ হাফেজে পরিণত হন। সাথে ইসলামি শিক্ষার বিভিন্ন শাখা যথা – কুরআন, হাদিস, তাফসীর, ফেকাহ, আকায়েদ, আদব ও অন্যান্য শাস্ত্রসমূহ অধ্যয়ন আরম্ভ করলেন।

মাত্র ষোল বছর বয়সে জালাল উল্লেখিত শাস্ত্রগুলোর গভীর জ্ঞানের অধিকারী হলেন। এভাবে মাত্র অল্পকিছুদিনের মধ্যেই জালাল মারফাতের সব সিড়িগুলো অতিক্রম করে বেলায়েতের আসন লাভ করলেন। পরবর্তিতে আহমদ কবীর শাহ জালালকে ইয়েমেন থেকে মক্কায় নিয়ে যান। মক্কা শহরে আহমদ কবীরের একটি আস্তানা (হোজরা) ছিল। সেখানে অন্যান্য শিষ্যদের সাথে শাহ জালালকেও উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন বলে জানা যায়।

কথিত আছে একদিন শাহ জালাল অভ্যাসানুরুপ উন্মুক্ত প্রান্তরে পায়চারী করতে করতে পার্শ্বস্থ বনভূমির দিকে অগ্রসর হলে তিনি দেখলেন, শ্বেত ধবধবেপোশাক পরিহিত প্রশান্ত ও সৌম্য দর্শন এক মহাসাধক ব্যক্তি বের হয়ে তাঁকে বললেন, দাড়াও। দরবেশ তার নামোচ্চারণ করে বললেন জালাল! তুমি হা করো, দরবেশ লোকটি তার নিজের মুখের খানিকটা লালা বের করে শাহ জালালের জিহ্বায় তা ঘষে দিলেন।

যাবার কালে তিনি বললেন “আমি তোমার জন্য মাবুদের দরবারে মোনাজাত করেছি, তিনি যেন তোমার জীবন সার্থক ও ধন্য করে দেয়। প্রস্থানের সময় তিনি পরিচয় দিয়ে বললেন, “আমি খাজা খিজির ” তার পবিত্র মুখের লালার ক্রিয়া ও দোয়ার প্রভাবই হযরত শাহ জালালের জীবনের পথের প্রধান সহায়করুপে ভূমিকা রেখেছিলেন।

একদিন এক ঘটনা ঘটল। হযরত শাহ জালাল (রহঃ) এবাদত বন্দেগী ও মোরাকাবা, মোশাহাদা সমাপ্ত করে তন্দ্রাভিভূত হলেন। তখন রাত্রি দ্বিপ্রহর। তিনি স্বপ্নযোগে দেখতে পেলেন সৌম্যদর্শন ও অত্যুজ্জ্বল কান্তিবিশিষ্ট এক মহাপুরুষ তার কক্ষে সমাগত। তার পরিধানে অজানুলম্বিত, শুভ্র পরিচ্ছেদ, মস্তিষ্কে উষ্নীষ এবং সুন্দর শুভ্র শ্মশ্রুমন্ডিত সহাস্যবদন, চেহরা হতে আলোকরশ্মি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। মহাপুরুষ ত্কে লক্ষ করে বলল, ” হে শাহ জালাল, এ তরুন বয়সে তোমার অপূর্ব সাধনা, ত্যাগ, তিতিক্ষা, আত্নসংযম ও আল্লাহর প্রেমে আত্নবিস্মৃতির দৃশ্য দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি।

আল্লাহ তোমার উপর খৃশি হয়ে তার প্রিয় বান্দাগনের দপ্তরে তোমার নাম লিখিয়েছেন। তোমার ভেতর এখন যে যোগ্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে তোমাকে মানুষের খেদমতে অবতীর্ণ হতে হবে। তুমি আমার প্রতিনিধি হিসেবে ভারতবর্ষ তথা হিন্দুস্থানে গমন করবে। তোমার প্রতি এটাই আমার নির্দেশ। হযরত শাহ জালালের (রহঃ) নিদ্রা ভঙ্গ হল। স্বপ্ন দেখে তিনি আনন্দে আত্নহারা হয়ে গেলেন। নামাযে দাঁড়ানোর পূর্বেই তিনি মামার নিকট স্বপ্নের আদ্যোপান্ত বিবৃত করলেন।

অতঃপর তিনি ভাগিনাকে হিন্দুস্থান প্রেরনের জন্য মনঃস্থির করে এক মুষ্ঠি মৃত্তিকা প্রদান করে বললেন। যেখানকান মাটির রং ও গন্ধএর সাথে মিলে যাবে সেটাই তোমার গন্তব্যস্থান। তিনি শাহ জালালের সহচররুপে প্রথম শ্রেণির বারোজন অলী মনোনীত করলেন। পথে পথে তার আধ্যাত্নিক সাধনায় মুগ্ধ হয়ে তার অনুসারীর সংখ্যা বাড়তে থাকলো।যখন দিল্লী পর্যন্ত এসে পৌঁছালেন তখন শিষ্যদের সংখ্যা ২৪০ জন ছিল বলে জানা যায়।

সেসময় দিল্লীর প্রসিদ্ধ আলেম ও আধ্যাত্নিক ধর্মগুরু ছিলেন হযরত নিজামউদ্দীন(রহঃ)। দিল্লিতে আসার পর নিজামুদ্দিন আউলিয়ার জনৈক শিষ্য গুরুর কাছে শাহ জালালে সম্পর্কে কুত্সা রটনা করে। সঙ্গে সঙ্গে নিজামউদ্দীন (র) অন্যের কুত্সা রটনাকারী এ শিষ্যকে উপযুক্ত শাস্তিস্বরূপ দরবার থেকে তাড়িয়ে দেন এবং অন্য দুই শিষ্যকে ডেকে তাদের মারফতে শাহ জালালের কাছে সালাম পাঠান ।

শাহ জালাল সালামের উত্তরে উপটৌকনস্বরূপ ছোট একটি বাক্সে প্রজ্জলিত অঙ্গারের মধ্যে কিছু তুলা ভরে নিজামুদ্দীন আউলিয়ার নিকট পাঠান। নিজামুদ্দিন আউলিয়া হযরত শাহ্ জালালের আধ্যাত্মিক শক্তির পরিচয় পেয়ে তাঁকে সাদরে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানান। বিদায়কালে প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ নিজামুদ্দিন আউলিয়া তাঁকে এক জোড়া সুরমা রঙের কবুতর উপহার দেন। কবুতর জোড়া তিনি পোষা পাখির মত পুষতে লাগলেন।

মাজার সংলগ্ন এলাকায় সুরমা রঙের যে কবুতর দেখা যায় তা ঐ কবুতরের বংশধর। যা জালালী কবুতর নামে খ্যাত। এদিকে সিলেটের বহু গৃহস্থেরর বাড়ীতে এ কবুতর দেখা যায়। স্বল্পদিনেই এ কবুতর সংখ্যায় বহু হয়ে যায়। এদের মাংস খাওয়া হয় না। এ কবুতর কোথাও বাসা বাধলে তা শুভ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

হযরত শাহ জালাল (রহঃ) যখন সিলেটে আগমন করে তখন রাজা গৌড় গোবিন্দের শাসন চলছিলো। তারমত নিষ্ঠুর অত্যাচারী ও পরধর্মবিদ্বষী শাসক ইতিহাসে খুব কম। তার নিষ্ঠুরতার পরিমাপ এক ঘটনার মাধ্যমেই করা যায়। সিলেটে শেখ বুরহানুদ্দীন নামের এক ধার্মিক লোক বাস করতেন।

আল্লাহ তাকে কোনোকিছুতে কমতি না দিলেও একজন সন্তানের আফসোস তার ঘুচল না। একরাতে তিনি ও তার স্ত্রী আল্লাহর নিকট এক সন্তান ভিক্ষা চাইলেন, বিনিময়ে এক গরু কোরবানির মানত করলেন। আল্লাহ তাদের প্রার্থনা কবুল করলেন কিন্তু সিলেটে গরু জবেহ করে মানত পূরণ তাদের জন্য অসম্ভব ছিলো।

তাদের কোলজুড়ে এক পুত্রসন্তান আসলো।শেষমেশ অতি গোপনে তারা কোরবানি সম্পন্ন করতে চাইলেন কিন্তু চিল একটু মাংস মুখে করে নিয়ে রাজদরবারে ফেলে রেখে যায়।তা গৌড়গোবিন্দের নজর এড়িয়ে যায় নি। তিনি বুরহানুদ্দীনেরর নবজাতক পুত্রকে বলির নির্দেশ দেন এবং বুরহানুদ্দীনের হাত কব্জি পর্যন্ত কেটে ফেলার নির্দেশ দেন


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *