বিশ্বনাথে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাঁসি

Uncategorized
শেয়ার করুন

আব্দুস সালাম, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় অন্যান্য বছরের চেয়ে চলতি বছর অগ্রাহায়ন মাসে ধানের বাম্বাপ ফলন হয়েছে। কৃষক সমাজ ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলেই নবান্ন উৎসব শুরু হবে। ফলন ভাল হওয়ার কারনে জমির মালিক, বর্গা চাষিরা খুবই খোশ মেজাজে রয়েছেন। প্রতিদিন সকালে কৃষক জমির আইলে আইলে ঘুরে ঘুরে ধান কখন কাঠবেন সেই দিন সময় গণণা করছেন। এখন কোন দূর্যোগের আশংকা না থাকায় কৃষক পরিবারে আনন্দও চলছে।
বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায় যে, আগের মত হাওরগুলোতে আমন ধান নেই। কিছু কিছু হাওরের নি¤œাঞ্চলে আমনের আবাদ হয়েছে। তবে এবার এ আমন ধানের ফলন ভাল। সর্বত্র সাইল ধানের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। কাঁচা-আধাপাঁকা ধানে হাওর গুলো সকালে বিকালে সবুজ লাল ও নীল রঙ্গের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন ঘুঘু ও চড়–ই পাখির দল পাঁকা ধানে হানা দিয়ে কিছু ক্ষতি করছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার রমজান আলী জানান, এবছর প্রায় ১৩ হাজার ৩ শত ১০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪ টন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তুলনা মূলক ভাবে এখন কম জমি চাষাবাদ হচ্ছে। বিভিন্ন ইটভাটা ও বাড়ি ঘরে দালান নির্মানের সময় কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কয়েক ফুট গর্ত করে নেয়ায় এসব জমিতে অগ্রাহায়ন মাসে ফষল উৎপাদন করা যায়না। তবে মাঝে মধ্যে এসব গর্তকৃত জমিতে বৈশাখ মাসে ইরি বুরো ফসল উৎপাদন করা হয়।
উল্লেখযোগ্য ধানের মধ্যে রয়েছে, বিনা৭, বিআর ১১, ৩২.৩৪,৪৯,, ৫১,৫২,৬১, স্থানীয় জাতের ধান হচ্ছে ময়না শাইল, রিরন, জরিশাইল, কালোজিরা, হাসিম, কার্তিক শাইল সহ বিভিন্ন জাতের ধান রয়েছে।
বলা আবশ্যক যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারনে আগের মত হাওরে ধান চাষের জায়গা নেই। এখন বিভিন্ন হাওরে বাড়ি ঘর তৈরী হওয়ায় কৃষি জমি কমে গেছে এবং খাদ্য উৎপাদনও কমেছে। এক সময় বিশ্বনাথে ভাদ্র মাসে বড় ধরনের আউশ ফসল উৎপাদন হতো। কিন্তু এখন শুধু চৈত্র ও বৈশাখ মাসেই ইরি, বুরো এবং অগ্রাহায়ন মাসে ২ ফসল ধান উৎপাদন হয়।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *