বিশ্বনাথে গরিবের মামলা সঠিক তদন্ত হয়না : আসামিও ছাড়া পায়

Uncategorized
শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বনাথ থানায় গরিবের দায়েরী অধিকাংশ মামলায় সঠিক তদন্ত হয়না। আইনের ফাঁক ফোঁকরের সুযোগে মামলার ঘটনা সত্য থাকলেও আসামিরা চার্জশীট থেকে অব্যাহতি পায়। এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তভুগী গরিব অসহায় বাদিরা অভিযোগ করে আসছেন। কেউ কেউ মামলার সঠিক তদন্তের জন্য সিলেটের জিআইজি, পুলিশ সুপারের নিকট মামলা স্থানান্তরের অভিযোগও করেছেন। এ ধরনের বেশ কয়েকটি অভিযোগ বিশ্বনাথেরডাক ২৪ডটকমের অফিসে কাগজপত্র জমা দিয়ে বাদিরা।

গত ২৬ শে মার্চ বিশ্বনাথ থানার অলংকারি ইউনিয়নের পিটাকরা গ্রামের অধ্যক্ষ মাওলানা ইলিয়াস হুমাউদিকে প্রাণে হত্যার জন্য প্রতিপক্ষের লোকজন বিকেল ৫টায় তার ঘরের সামনে আক্রমন করে। আসামিরা দা, ডেগার, সুলফি, লোহার রড, পানির পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র দিয়ে হুমাইদির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। তাকে রক্ষার জন্য ভাই বোন সহ আত্নীয় স্বজনরা এগিয়ে আসলে সকল আসামিরা একে অপরের সহযোগিতায় বেধড়ক মারপিট করে গুরুত্বর জখম করে। ইলিয়াস হুমাইদি সহ কয়েক জনকে সিলেট ওসমানী হাসপাতাপলে ভর্তি করা হয়। জায়গা জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে তাদের বিরুধ রয়েছে। এই সুযোগে গরিব নিরিহ পরিবারটিকে বাড়ি ঘর থেকে উচ্চেদের জন্য বার বার হামলা করা হয়। এ ঘটনায় দিনমজুর ও জখমি আলকাছ আলী বাদি হয়ে বিশ্বনাথ থানায় দন্ড বিধি আইনের ১৪৩/৪৪৭/৩২৪/৩২৬/৩০৭ ধারা মতে ১০ জনের বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের, (মামলা নং-২৪, তারিখ ২৯/০৩/২০২০ইং, বিশ্বনাথ জিআর ৬৪/২০২০ইং) করেন। এ মামলায় তদন্তভার দেয়া হয় এসআই নুর হোসেনকে। তদন্ত শেষে তদন্তকারি কর্মকর্তা ১৪৩/৪৪৭/৩২৬/ ধারা বাদ দিয়ে ১০জন আসামির মধ্যে মাত্র ৪জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। একই দিন প্রতিপক্ষের আখতার হোসেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টা একটি সাজানো মামলা তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করলে, সেই মামলায় তাদের সকলকে শক্ত ধারায় অভিযোক্ত করে চার্জশীট দাখিল করা হয়। চার্জশীট দাখিলের পর বাদি আলকাছ আলী আদালতে নারাজি দাখিল করলে মাননীয় আদালত মামলাটি পূর্ণ তদন্তের জন্য পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। একজন কর্মকর্তাও ইতিমধ্যে সরেজমিনে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে এসে ছিলেন। আলকাছ আলী জানান, আমি দিমমজুর লোক। করোনার কারনে অনাহারে কয়েকদিন থাকাবস্থার পর পুলিশ সুপার বিষয়টি জেনে আমার বাড়িতে খাদ্য প্রেরন করেছিলেন। এখন আসামিগণের হুমকি ধামকিতে আমি বাড়ি ঘরে থাকতে পারছিনা এবং রুজি রুজগার করা সম্ভব হচ্ছেনা। আমি গরিব, আসামিরা অর্থ সম্পদশালি থাকায় ঘটনার সাথে আসামিরা জড়িত থাকা সত্বেও ৬জন আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আমার মামলার প্রধান আসামি আখতার হোসেন মিথ্যাভাবে আমাদের উপর একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সুপার ও তৎকালিন ওসমানীনগরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নিদের্শে সাজানো এ মামলাটি ফাইনাল দেয়ার কারনে আসামিরা ক্ষীপ্ত হয়ে আমি ও আমার ভাইকে খুন করার চেষ্টা করে।

এদিকে অলংকারি ইউনিয়নের বটতলা গ্রামের রোকন মিয়াজি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলের বিরুদ্ধে একটি দোকান জালিয়াতির মামলা দায়ের করলে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেনি। এ ঘটনায় সাংবাদিক সম্মেলনের পর মামলা রেকর্ড করা হলেও নাজমুল ইসলাম সহ কোন আসামি গ্রেফতার ও স্বাক্ষী গ্রহনে অনিহা প্রকাশ করেন। অবশেষে পুলিশ সুপারের নিকট আবেদনের প্রেক্ষিতে বর্তমানে এ মামলাটি সিআইডি পুলিশের নিকট স্থানান্তর করা হয়।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *