বিশ্বনাথে আ’লীগ নেতা খুনের ঘটনায় গ্রেফতার-২

Uncategorized
শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোটার

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের পুরান সৎপুর গ্রামের আহমদ আলী খুনের ঘটনার ৩দিনের মাথায় ২‍ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-নিহত আহমদ আলীর মৎস্য খামারের প্রহরী ও সৎপুর খাসজান গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার পুত্র জমির হোসেন (৩৫) ও পুরান সৎপুর গ্রামের মৃত ফয়জুর রহমানের পুত্র সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান উরফে আব্দুল মতিন (৬৪)।

হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সিকান্দর আলী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে মামলার প্রেক্ষিতে এই ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যান্ডের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রহরী জমির হোসেন এবং রোববার (৯ জুন) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে এক প্রেস ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম।

মৎস্য খামারের প্রহরী জমির হোসেন, সাবেক ইউপি মেম্বার মতিউর রহমান উরফে আব্দুল মতিন ও দেওকলস ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুম আহমদ মারুফ সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে গতকাল রোববার বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত আহমদ আলীর ভাই সিকান্দর আলী, (মামলা নং-৬)।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন- প্রহরী জমির হোসেন ও বিএনপি নেতা মাসুম আহমদ মারুফের বোন ফাতেমা বেগমের কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় এবং তাজপুর বাজারস্থ মৎস্য আড়ৎ এর কমিটি গঠন সহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার (বাদীর) ভাই আওয়ামী লীগ নেতা আহমদ আলীকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার রহস্য লুপাট করার জন্য আহমদ আলীকে হত্যা করে তার লাশ নিজ মৎস্য খামারের পুকুরে ফেলে রাখে ঘাতকরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার এসআই লিটন রায় বলেন- রোববার ভোরে উপজেলার হরিকলস এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামি জমির হোসেনকে ও সন্ধ্যায় সৎপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত মতিউর রহমান উরফে আব্দুল মতিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুষ্ঠ তদন্তের পর আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে জানিয়েছেন থানার অফিসার ইন-চার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে আহমদ আলীকে তার পরিবারের লোকজন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে না পেয়ে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে তাকে খোঁজাখুজি শুরু করেন। এরপর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে নিজ মৎস্য খামারের পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে মৎস্য খামারের প্রহরী জমির হোসেন পলাতক ছিল। ফলে বিভিন্ন কারণে তার ও মাছুম আহমদ মারুফের দিকেই সন্দেহের তীর ছিল নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর। লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরদিন শুক্রবার বিকেল ৬টায় জানাযার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহত আহমদ আলীর দাফন সম্পন্ন করা হয়।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *