স্টাফ রিপোর্টার :: আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ৬টি আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীদের সকলেরই পেশা ব্যবসা। অপরদিকে তাদের সকলের স্ত্রী-ই গৃহিণী। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দেওয়া হলফনামা ঘেঁটে এসব তথ্য জানা গেছে।
হলফনামায় সিলেটে জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন সিলেট-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। আর সবচেয়ে বেশী মামলার দিক থেকে এগিয়ে সিলেট-৬ আসনের আরেক প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৪৩টি নিষ্পত্তিকৃত মামলা ও ১টি চলমান মামলা।
জমা দেওয়া হলফনামায় উঠে এসেছে জামায়াত প্রার্থীদের বৈচিত্র্যময় তথ্য।
হলফনামা ঘেঁটে জানা যায়, সিলেট-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের পেশা ব্যবসা। হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৫২ হাজার ২৮০ টাকা, তবে তার হামিদা রহমান পেশায় গৃহিণী। স্ত্রীর কোন আয় ও সম্পদ নেই। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। হাবিবুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতায় কামিল। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো চলমান মামলা নেই, তবে ১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী।
সিলেট-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নানও পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোনো চলমান মামলা নেই, তবে ১টি মামলা ছিল তা নিষ্পত্তি হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৮২ লাখ ৩৫ হাজার ৬১১ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৭৮ লাখ ৭ হাজার ৩৭৮ টাকা। তার নামে কোনো ঋণ নেই। হান্নানের শিক্ষাগত যোগ্যতায় এম.কম ডিগ্রিধারী। তার স্ত্রী মাহফুজা হান্নান পেশায় গৃহিণী। তবে পূর্বে তিনি শিক্ষকতায় জড়িত ছিলেন।
সিলেট-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী লোকমান আহমদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল। তিনিও পেশায় ব্যবসায়ী। ৫ সন্তানের জনক লোকমান আহমদের স্ত্রী হাজেরা বেগমও গৃহিণী। লোকমানের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩টি মামলা চলমান ও ইতোমধ্যেই ১০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২১ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ১৯২ টাকা। সব মিলিয়ে তিনি ছয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক। হলফনামায় ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে জানিয়ে অধিগ্রহণকালে এর মূল্য ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন লোকমান।
সিলেট-৪ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন শিক্ষাগত যোগ্যতায় এমএসএস ডিগ্রিধারী। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোনো চলমান মামলা নেই, তবে ৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। হলফনামা অনুযায়ী তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার ৮৭৯ টাকা।জয়নালের স্ত্রী রোজিনা বেগম পেশায় গৃহিণী। তার কোন আয় ও সম্পদ নেই।সিলেট-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফিজ মো. আনওয়ার হোসাইন খান শিক্ষাগত যোগ্যতায় কামিল। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোনো চলমান মামলা নেই, তবে ২২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৭০ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৭০ টাকা।আনওয়ার হোসাইনের স্ত্রী মাহবুবা বেগম জেসমিনও পেশায় গৃহিণী। তারও কোন আয় ও সম্পদ নেই।সিলেট-৬ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন শিক্ষাগত যোগ্যতায় এমএ ডিগ্রিধারী এবং পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ১টি মামলা চলমান এবং ৪৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যা এই ছয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ। হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় ৭ লাখ টাকা এবং ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৫ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ টাকা।সেলিমের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম চৌধুরীও পেশায় গৃহিণী। তারও কোন আয় ও সম্পদ নেই।প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও।
