সিলেটে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড ফাহিমার খুনির বাড়ি -ঘর ভেঙ্গে দিয়েছে জনতা

অপরাধ সিলেট
শেয়ার করুন

ইয়াছিন মির্জা, বিশেষ প্রতিনিধি ::

সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকাধীন সোনাতলা গ্রামে চারবছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টা ও খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি জাকির হোসেনের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার (১৫ মে) জুমার নামাজের পর মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জাকিরের বাড়িতে হামলা চালান। তারা জাকিরের বাড়ির বসতঘর ভেঙে দিয়েছে।

জাকির হোসেন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা। আর ফাহিমা জাকিরের প্রতিবেশি দিনমজুর রইসুল হকের শিশু কন্যা।

‎জানা গেছে, শিশু ফাহিমার খুনি জাকির গ্রেফতারের পর তার ফাঁসির দাবীতে নানা কর্মসুচী পালন এবং তার বাড়ীতে হামলা করা হয়। এতে খুনির ভাই জয়নাল আবেদীন তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন তাদের বাড়িঘর লুটপাট করে অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়। এতে এলাকাবাসী আরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে আজ শুক্রবার (১৫ মে) জুমার নামাজের পর খুনি জাকিরের ফাঁসির দাবিতে এলাকায় মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে এলাকাবাসী বর্বরোচিত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাকিরের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। পরে মানববন্ধন থেকে মিছিল সহসকারে এলাকাবাসী জাকিরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তারা জাকিরের ঘরের বেড়া, চাল ও  আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে জালালাবাদ থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিলে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব সাংবাদিকদের জানান, জুমার নামাজের পর মানববন্ধন শেষে এলাকার লোকজন গিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করেন। তিনি জানান, এর আগেও জাকিরকে গ্রেফতারের পর এলাকার লোকজন তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছিলেন। ওই সময় বিক্ষুব্ধ লোকজনের হাতে পুলিশও লাঞ্ছিত হয়েছিল।

‎প্রসঙ্গত, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় চারবছরের শিশু ফাহিমা আক্তার। দুদিন পর ৮ মে বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১১ মে রাতে পুলিশ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ফাহিমার প্রতিবেশি জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে। পরে জাকির হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে। সে জানায় সিগারেট আনতে সে ফাহিমাকে দোকানে পাঠিয়েছিল। দোকান থেকে ফেরার পর ফাঁকা ঘরে সে ফাহিমাকে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। এসময় ফাহিমা অজ্ঞান হয়ে পড়লে সে তাকে গলাচেপে হত্যা করে। এরপর দুদিন মরদেহ ঘরে রাখে। গুম করতে না পেরে পরে লাশ বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ের বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে ফেলে আসে।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *