কারাগারে বন্দি থেকে ডাকাতি মামলার আসামি, তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতের শোকজ ‎

Uncategorized
শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক :: কক্সবাজারের চকরিয়া থানা পুলিশের একটি ডাকাতি মামলার তদন্ত নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে ডাকাতির ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখিয়ে মামলার অভিযোগপত্রও (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়েছে।

‎ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম আবুল বশর। তিনি চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের হাফালিয়াকাটা মোরারপাড়া এলাকার নুরু সওদাগরের ছেলে।

‎জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ চকরিয়া থানার একটি মামলায় (জিআর ১৩৪/২০২৫) আবুল বশরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

‎কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, কারাগারে যাওয়ার একমাস পর ২৪ মে চকরিয়া থানায় দায়ের হওয়া নতুন একটি ডাকাতি মামলায় (মামলা নম্বর-৫৮) তাকে আবারও আসামি করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

‎কারাগারের তথ্যমতে, আবুল বশর ২৩ মার্চ থেকে টানা ৩ মাস ৪ দিন কারাবন্দি ছিলেন। অথচ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরকানুল ইসলাম দীর্ঘ তদন্ত শেষে কারাগারে থাকা বশরকে ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ত দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

‎আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইলিয়াছ আরিফ চার্জশিট দাখিলের দিন বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরকানুল ইসলামকে শোকজ করেন। একইসঙ্গে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

‎আবুল বশরের স্বজনরা জানান, পুলিশ ভালো করেই জানে বশর আগে থেকেই জেলে। শুধুমাত্র হয়রানির উদ্দেশ্যে তাকে নতুন মামলায় জড়ানো হয়েছে। কারাগারে থাকা ব্যক্তি কীভাবে বাইরে এসে ডাকাতি করে, তা বোধগম্য নয়। তারা এর ন্যায়বিচার চান।

‎চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মঈন উদ্দিন জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় কাউকে নতুন মামলায় আসামি করা জটিলতা তৈরি করে। যাচাই-বাছাই ছাড়া এমনটি করা হলে তা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন।

‎এ বিষয়ে মামলা রুজু করার সময়কার চকরিয়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরকানুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। প্রসঙ্গত, একটি ভাইরাল ভিডিওর জেরে তাকে সম্প্রতি চকরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে কক্সবাজার জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

‎চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশ জানান, আসামি জেল হাজতে থাকলে বাইরের কোনো অপরাধে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। তদন্তে ভুল বা গাফিলতি থাকলে আদালত ব্যবস্থা নেবেন। পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কারাগারে থাকা মানুষ কীভাবে নতুন মামলার আসামি হয়, তা অবিশ্বাস্য। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সুত্র একুশে পত্রিকা


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *